সাইফ-শান্তকে হারিয়ে লাঞ্চে বাংলাদেশ

১১

শ্রীলংকার ৪৯৩ রানে ইনিংস ঘোষণার পর তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনের প্রায় সবটাই দারুণ খেলল বাংলাদেশ। তবে পুরোটা নিজেদের করে নেয়ার দ্বারপ্রান্তে এসেও ব্যর্থ। তামিমের ঝড়ো অর্ধশতকের পর মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে সাইফ হাসান (২৫) আর নাজমুল হোসেন শান্ত (০) ফিরলে অম্ল মধুর কাটল বাংলাদেশের সেশনটা। ফলে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সফরকারীদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৯৯ রান।

নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করেন দুই টাইগার ওপনোর তামিম ইকবাল এবং সাইফ হাসান। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের ৩১তম অর্ধশত পূর্ণ করেন তামিম। অপরপ্রান্তে ভালোই খেলছিলেন উদীয়মান তারকা ক্রিকেটার সাইফ। ওপেনিং জুটিতে দুজনের সংগ্রহ ৯৮ রান।

জয়াবিক্রমার বলে ধনঞ্জয়ার হাতে ক্যাচ তুলে দেয়ার আগে ২৫ রান করেনি সাইফ। দ্বিতীয় উইকেটে ব্যাট করতে আসেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান নাজমুল হাসান শান্ত। কিন্তু ব্যাট হাতে হতাশ করেছেন তিনি। সাইফ আউট হওয়ার পরের ওভারে তিনিও ফেরেন। ৪ বল খেলে ব্যক্তিগত খাতায় কোনো রান তুলতে পারেনি শান্ত। এদিকে আপনতালে খেলতে থাকা তামিম ইকবাল অপরাজিত রয়েছেন ৭০ রানে।

বৃহস্পতিবার টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে। ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের বোলারদের দেখে-শুনে খেলতে থাকেন লঙ্কান দুই ওপেনার। মাটি কামড়ে ব্যাট করতে থাকায় উইকেটের দেখা পাচ্ছিল না সফরকারীরা।

করুনারত্নে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন। এটি তার ক্যারিয়ারের ১২তম শত রানের ইনিংস। অন্যদিকে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন আরেক ওপেনার লাহিরু থিরিমিান্নে। দুজনের ওপেনিং জুটি থেমেছে ২০৯ রানে।

অভিষিক্ত পেসার শরিফুল ইসলামের বলে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন করুনারত্নে। ১৯০ বলে ১১৮ রানে আউট হন তিনি। প্রথমদিনে ১ উইকেটে ২৯১ রান তুলে লঙ্কানরা।

দ্বিতীয়দিন ব্যাট করতে নেমে ব্যক্তিগত অর্ধশত রান পূর্ণ করেন ফার্নান্দো। আপনতালে খেলতে থাকেন তিনি। অন্যদিকে ১৪০ রান তুলে তাসকিন আহমেদের বলে লিটনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন থিরিমান্নে। পরের উইকেটে ব্যাট করতে আসা ম্যাথিউসকে মাত্র ৫ রানে ফেরান । তাসকিনের পর বল হাতে সফল তাইজুল ইসলামও। ক্রিজে বেশিক্ষণ থাকতে পারেনি আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ব্যাটসম্যান ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। এই লঙ্কান ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন মাত্র ২ রানে।

৩২৮ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৫০ রান তুলেন ওসাদা ফার্নান্দো ও পাথুম নিশানকা। ৮৪ বলে ৩০ রান করে তাসকিনের বলে বোল্ড হন নিশানকা। এরপর তাইজেুলের বলে আউট হওয়ার পূর্বে করেন ৮১ রান করে।

সপ্তম উইকেটে ক্রিজে খুঁটি গাড়েন দুই লঙ্কান ব্যাটসম্যান নিরোশান দিকভেলা এবং রমেস মেন্ডিস। দুজন মিলে গড়েন ১১১ রানের জুটি। ৩৩ রানে আউট হন মেন্ডিস। দিকভেলা ফিফটি করার পর অপরাজিত ৭৭ রানে।