hasina

প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে ইন্দোনেশিয়ায় ব্যতিক্রমী যাদুঘর নির্মাণ

7

প্লাস্টিকের বোতল, ব্যাগ দিয়ে তৈরি হয়েছে দৃষ্টিনন্দন যাদুঘর। বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক প্লাস্টিক সংকট সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্য ব্যতিক্রমী এই যাদুঘর নির্মাণ করেছে ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশবাদীরা।

প্লাস্টিক ব্যবহারে চীনের পরে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। এছাড়াও ভিয়েতনাম, ফিলিপাইনের সাথে দেশটি বিশ্বব্যাপী সমুদ্রের অর্ধেকেরও বেশি বর্জ্য তৈরির জন্য দায়ী। সমুদ্রবেষ্টিত এই দ্বীপ রাষ্ট্র বিশ্বের পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। প্রতিবছর বহু পর্যটক দেশটি ভ্রমণ করেন এবং ব্যবহৃত প্লাস্টিক বোতল সাগরে ফেলে যান। পর্যটকরা চলে গেলেও তাদের ফেলে যাওয়া বোতলে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ক্ষতির কবলে পড়ে সমুদ্র।

এসব অব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল এবং খোসা দিয়ে জাদুঘর তৈরি করেছে ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশবিদরা। এর মাধ্যমে তারা বিশ্বকে একটি বার্তা দিয়েছে। তা হলো- প্লাস্টিক বর্জ্যের হাত থেকে সমুদ্রকে রক্ষা করা।

ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা দ্বীপের গ্রেসিক শহরে নির্মিত হয়েছে এই যাদুঘর। তৈরিতে সময় লেগেছে তিন মাস। এতে দশ হাজারেরও বেশি বোতল, ব্যাগ, স্যাশেট ব্যবহার করা হয়েছে, যার পুরোটাই দূষিত নদী ও সমুদ্র সৈকত থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

জাদুঘরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেবী শ্রী নামে একটি প্রতিমা। জাভাদ্বীপের অধিবাসীদের নিকট দেবী শ্রী সমৃদ্ধির দেবী নামে সমাদৃত। এই প্রতিমাও প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে তৈরি।

আয়োজকদের আশা এর ফলে মানুষ প্লাস্টিক ব্যবহারে তাদের অভ্যাসের পরিবর্তন করবে এবং প্লাস্টিককে না বলবে।

জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা প্রিগি আরিসান্দি বলেন, এই প্লাস্টিকগুলো পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করা অসম্ভব। সমুদ্র আমাদের জীবন-জীবিকার উৎস, প্লাস্টিক সমুদ্রকে মারাত্মক হারে বিপন্ন করে চলেছে। তাই প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করা উচিত।

চারপাশে সমুদ্র দ্বারা বেষ্টিত জাভাদ্বীপের সিংহভাগ নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান। দেশটি প্লাস্টিকের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশের মধ্যেও ইন্দোনেশিয়া অন্যতম।

ব্যতিক্রমধর্মী এই জাদুঘর ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বহু সংখ্যক মানুষ জাদুঘরে পরিদর্শন করছেন, ছবি তুলছেন এবং প্লাস্টিক ব্যবহার কমানোর বার্তা বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সূত্র : সিএনএন।