লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার স্বপ্ন শেষ গাদ্দাফির ছেলের

19

লিবিয়ার নির্বাচন কমিশনের নতুন সিদ্ধান্তের কারণে প্রেসিডেন্ট পদে ভোটে লড়তে পারবেন না দেশটির প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির চেলে সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফি। আজ বৃহস্পতিবার এ খবর জানায় জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে।

দেশটির নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে জানিয়েছে, সাইফ আল-ইসলামের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা নেই।

আগামী মাসেই লিবিয়ায় এ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কমিশনের মতে, অপরাধমূলক কাজের জন্য সাইফ গাদ্দাফির শাস্তি হয়েছে। তাই তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে লিবিয়ায় বিদ্রোহ হয়েছিল। সে সময় গাদ্দাফি-পুত্র যুদ্ধাপরাধ করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ২০১৫ সালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং তার মৃত্যুদণ্ড হয়। সাইফ গদ্দাফি অবশ্য দাবি করেন, তিনি নির্দোষ। তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতও খুঁজছে। সেখানে তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আছে। অবশ্য সাইফ একা নন, মোট ২৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছে কমিশন। তার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলের প্রধানও আছেন। তারা অবশ্য এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন জানাতে পারবেন।

এ মাসের গোড়ায় সামরিক কম্যান্ডার হাফতার জানিয়ে দেন, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বেন। সাইফ বহু বছর পর জনসমক্ষে এসেছিলেন। ১০ দিন আগে তিনি প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়ন জমা দেন। লিবিয়ার কিছু পর্যবেক্ষকের মত ছিল, গাদ্দাফির ছেলে নির্বাচনে জিততে পারেন। আবার কিছু পর্যবেক্ষক মনে করেছেন, সাইফ নির্বাচনকে অস্থির করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারবেন না। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা আগামী ২৪ ডিসেম্বর। কিন্তু যেভাবে এ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধছে, তাতে শেষপর্যন্ত ওই নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।

তবে জাতিসংঘ চায় নির্বাচন হোক। গত এক দশক ধরে লিবিয়ায় টালমাটাল পরিস্থিতি চলছে। নির্বাচন হলে পরিস্থিতি ভালো হবে বলে জাতিসংঘের মত।